বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগ পদ্ধতি ও সেইসব কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে আজকে জানার চেষ্টা করবো।
রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়ােগ, ভােটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়ােগের জন্য প্যানেল প্রস্তুত, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং তাহাদের করণীয় কর্তব্যসমূহ জেনে আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগ
দেশের অন্যতম জাতীয় নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঠিক করা হয় পরবর্তী পাঁচ বছর কার হাতে থাকবে দেশের শাসন ব্যবস্থা। তাই দেশের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান।
নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়ােগ, ভােটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়ােগের জন্য প্যানেল প্রস্তুত, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করে থাকেন এবং তাদের দায়িত্বসমূহ বন্টন করে দেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগ ও তাদের করণীয়
জাতীয় সংসদ নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়ােগ
(১) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক অথবা দুই বা ততােধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একজন রিটার্নিং অফিসার নিয়ােগ করিতে পারিবেন।
রিটার্নিং অফিসারকে নির্বাচনী কাজে সহায়তাদানের জন্য প্রয়ােজনীয় সংখ্যক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়ােগ করিবার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর অর্পিত।
তবে শর্ত থাকে যে, একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে একের অধিক নির্বাচনী এলাকার জন্য নিয়ােগ করা যাইবে না। নির্বাচন কমিশন গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের এলাকা নির্ধারণ করিয়া দিবেন।
(২) সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে তাহার দায়িত্ব পালনের জন্য সহায়তা করিবেন এবং নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুসারে রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করিবেন [৭ (৩) অনুচ্ছেদ।]
(৩) রিটার্নিং অফিসার আইন এবং বিধিমালা অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠান সুইভাবে কার্যকরীকরণের জন্য যেরূপ কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়ােজন তাহা সম্পাদনের জন্য দায়িত্ববান থাকিবেন এবং পালন করিবেন [৭ (৪) অনুচ্ছেদ]
(৪) নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ এবং নিয়ন্ত্রণে খাকিয়া রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট জেলার সকল নির্বাচনী কার্যাদির তদারকী করিবেন এবং নির্বাচন কমিশন যেইরূপ আদেশ বা নির্দেশ জারী করিবেন তাহাও যাযথভাবে পালন করিবেন [৭ (৫) অনুচ্ছেদ]
(৫) কোন ভােটারের ভােটদানের সময় কোন প্রকার হস্তক্ষেপ বা হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভােটগ্রহণে বাধাদান কিম্বা ভেটিদান হইতে বিরত করা অথবা বাধাদানের প্রচেষ্টা অথবা যে কোন প্রকারে ভােটগ্রহণকারী সদস্য বা কোন ভােটারের উপর প্রভাব বিস্তার করা অথবা
কোন প্রকারে ভােটগ্রহণকারী সদস্য বা কোন ভােটারের উপর প্রভাব বিস্তার করা অথবা কোন প্রকার কাজ যাহা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবান্বিত করে এইরূপ কার্যকলাপের দায়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়ােজনীয় কারণাবলী লিপিবদ্ধ করিয়া যে কোন সময় নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়ােজিত কোন কর্মকর্তাকে অথবা
জনসাধারণের সেবায় নিয়ােজিত কর্মী অথবা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যকে কর্মস্থল হইতে প্রত্যাহার করিতে পারেন এবং এইরূপ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন তাহার বিবেচনা অনুযায়ী কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারেন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবেন [৭ (৬) অনুচ্ছেদ]।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগ ও তাদের করণীয়
(৬) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭ অনুচ্ছেদের (৭) দফা অনুসারে যেক্ষেত্রে কমিশন এই অনুচ্ছেদের দফা (৬) এর অধীন কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করে সেক্ষেত্রে উহা-
(ক) যদি অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কোন ভােট কেন্দ্রে বা নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত থাকেন তাহা হইলে তাহাকে তৎক্ষণাৎ ভােটকেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইতে নির্দেশ দিতে পারিবেন;
উপ-দফা (ক) এর অধীন কোন নির্দেশের ক্ষেত্রে, নির্দেশে উল্লিখিত সময়ের জন্য অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে নির্বাচনী এলাকার বাহিরে থাকিবার জন্য নির্দেশ দিবেন, এবং তদনুযায়ী তিনি নির্দেশ মান্য করিবেন, এবং যদি তাহাকে কেবলমাত্র ঐ নির্বাচনী এলাকায় কোন সরকারী দায়িত্ব পালন করিতে হয় তাহা হইলে তাহার নিয়ােগকারী কর্তৃপক্ষ তাহার ছুটি বা অন্যান্য বিষয়ের ব্যবস্থা করিবেন;
অনুরূপ কর্মকর্তা ব্যক্তি সম্পর্কে শাস্তিমূলক বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি প্রেরণ করিবেন। যে ক্ষেত্রে কমিশন দফা (৬) এর অধীন কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করেন, সেইক্ষেত্রে কমিশন উক্ত কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার জন্য বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভােটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্যানেল প্রস্তুত
(১) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে রিটার্নিং অফিসার ভােটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়ােগের উদ্দেশ্যে একটি প্যানেল প্রস্তুত করিবেন।
রিটার্নিং অফিসার তাঁহার অধীনস্থ জেলায় স্থাপিত সকল সরকারী অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহের প্রধানদের নিকট হইতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পােলিং অফিসার নিয়ােগের উদ্দেশ্যে যে যে গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রয়ােজন তাহার প্যানেল প্রস্তুতের জন্য লিখিতভাবে প্রয়ােজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা সরবরাহ করিতে নির্দেশ দিবেন [৯ (১) অনুচ্ছেদ)]
(২) প্যানেল প্রস্তুতের পর রিটার্নিং অফিসার যে সকল অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেই সকল অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রধানের নিকট প্যানেল অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনের কাজে নিয়ােজিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহাদের চাকুরী নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করিবার জন্য লিখিতভাবে অনুরােধ জানাইবেন এবং উক্ত প্যানেলের একটি করিয়া তালিকার কপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করিবেন [৯ (১) অনুচ্ছেদ)।]
(৩) রিটার্নিং অফিসার তাঁহার বিবেচনামতে উক্ত প্যানেলভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, এবং পােলিং অফিসার নিয়ােগ করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, তিনি কোন প্রার্থীর অধীনে কোন সময় চাকুরীতে নিয়ােজিত ছিলেন বা আছেন এইরূপ ব্যক্তিকে প্রিজাইডিং অফিসার বা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বা পােলিং অফিসার নিয়ােগ করিতে পারিবেন না [৯ (১বি) অনুচ্ছেদ।]

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়সূচী জারীর পর কর্মকর্তাদের বদলী আদেশের কার্যকারিতা স্থগিতকরণ
(১) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪ই অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচনী সময়সূচী প্রজ্ঞাপন জারীর সময় হইতে উক্ত আদেশের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচনী ফলাফল ঘােষণার পর ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সময়কালে জেলা জজের নিচে কোন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার বা জেলায় কর্তব্যরত তাহাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাগণকে নির্বাচন কমিশনের সহিত পূর্ব আলােচনা ব্যতিরেকে অন্যত্র বদলী করা যাইবে না।
(২) তবে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জেলা প্রশাসক কিম্বা পুলিশ সুপার কিম্বা তাহাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাকে জেলার বাহিরে বদলী করিতে পারিবে।
(৩) ৪৪ই অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুসারে ৯ অনুচ্ছেদে প্রস্তুতকৃত প্যানেলে যে সমস্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে তাহাদিগকে রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমতি ছাড়া জেলার বাহিরে বদলী করা যাইবে না।
(৪) পূর্ববর্তী (১) দফায় বর্ণিত কর্মকর্তাগণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসারের প্রয়ােজন অনুসারে সকল প্রকার সাহায্য ও সহযােগিতা প্রদান করিবেন।
(৫) ১৯৯১ সনের ১নং আইন অনুসারে যে সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচনের কাজে সহযােগিতার জন্য নিয়ােজিত আছেন তাহারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকুরীতে আছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাহাদের উপর নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকিবে।
এই তথ্যটি কোনো প্রকার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয় বরং জনগণের কল্যাণে বহুল প্রচারের লক্ষ্যে অধ্যয়ন ডট কম এর পাঠকদের সুবিদার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর সূত্র থেকে সংগৃহিত। এতে কারও কোনো আপত্তি থাকলে রিমুভ করার অনুরোধ করতে পারেন: OdhayonOnline@gmail.com অথবা সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
অধ্যয়ন ডট কম এর সকল আপডেট সবার আগে পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক ও ফলো রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। প্রতিদিন শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমাদের দৈনিক শিক্ষা ক্যাটাগরি দেখুন।